আজ ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আরাকানে মুসলিম গণহত্যার দায় জাতিসংঘ এড়াতে পারবে না: জাতীয় শিক্ষক ফোরাম

আইএবি নিউজ : জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেছেন, খুনি অং সান সুচি বিশ্বব্যাপী অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে সে শান্তি কন্যা হতে পারে না। তার শান্তিতে নোবেল ফিরিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, আরাকানের স্বাধীনতাই একমাত্র রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান। বিশ্ব মুসলিমকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিতে হবে। সন্ত্রাসী বৌদ্ধ জান্তারা বিশ্বব্যাপী অশান্তি সৃষ্টি করছে। বৌদ্ধরা এখন চীনসহ অন্যান্য দেশেও অশান্তির আগুন জ্বালাতে চায়। বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে। বৌদ্ধরা যদি তাদের সন্ত্রাসী তান্ডব বন্ধ না করে তাহলে বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের ধৈয্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে তখন কিছু করার থাকবে না। তিনি ২৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দেশব্যাপী শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন কর্মসুচি ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম ঢাকা জেলা শাখার উদ্যোগে মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরৎ নেয়ার দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসুচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। সংগঠনের ঢাকা জেলা সভাপতি অধ্যাপক ডা. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সচিব মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, শিক্ষক ফোরাম নেতা মাওলানা আরিফুল ইসলাম, মাস্টার আব্দুস সবুর, মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মুহাম্মদ হুমায়ূন কবির, মাওলানা কামাল উদ্দিন, মাওলানা নূর হোসাইন, মাওলানা আজিজুল হক প্রমূখ।
অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, মিয়ানমার সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতিসংঘের ভুমিকা রহস্যজনক। তারা কি করছে, বিশ্ববাসী জানতে চায়। আর কত রক্ত ঝড়লে, আর কত মানুষ খুন হলে, নারী-শিশু হত্যাকান্ডের শিকার হলে জাতিসংঘ সন্ত্রাসীদের জান্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে জাতি জানতে চায়।
সদস্য সচিব এবিএম জাকারিয়া বলেন, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা মগ জাতিরা মুসলমানদের রক্ত নেশায় মেতে উঠেছে। সন্ত্রাসী ও খুনি বৌদ্ধদের এখনই রুখে দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এবং বার্মিজ পণ্য বর্জন করা।
মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, বৌদ্ধ ধর্মে জীব হত্যা মহাপাপ বলা হলেও তা চরম ধোকা ছাড়া আর কিছুই নয়। বিশ্বব্যাপী বৌদ্ধরা সন্ত্রাসী ও খুনি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তারা খুনি হিসেবে তাদের অবস্থান ক্রমেই পরিস্কার করছে। ইতোমধ্যে চীন, থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশেও মিয়ানমারের পথ অনুসরণ করে বৌদ্ধরা শরণার্থী মুসলমানদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। বৌদ্ধরা যদি সন্ত্রাসী তান্ডব বন্ধ না করে তাহলে মুসলমানরা নিরবে বসে থাকবে না। তখন বৌদ্ধ ভিক্ষুরাই দায়ী থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. কামরুজ্জামান বলেন, মুসলমানদের জেগে উঠতে হবে। প্রয়োজনে জিহাদের ডাক দিতে হবে। আরাকানকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা না করতে পারলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে নাভ। তিনি বলেন, অং সান সুচি খুনি, রক্ত পিপাসু। তার খুনের বদলা মুসলমানদেরকে নিতে হবে। তিনি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে জিহাদের ঘোষণা দেয়ার জন্য আহ্বান জানান।
কর্মসূচি : মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরৎ নেয়ার দাবিতে ২৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সারাদেশে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।

আপনার মতামত দিন
523Shares

স্যোসাল মিডিয়াতে দেখুন আমাদের সংবাদ

Follow us on Facebook Follow us on Twitter Follow us on Pinterest 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     একই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ