আজ ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এ শরীক হয়ে ইসলামী বিপ্লবকে তরান্বিত করুন

শেখ ফজলুল করীম মারুফ : দাবা হলো বুদ্ধির খেলা। রাজনীতি অনেকটা দাবা খেলার মতো। ইসলামী দলগুলোও রাজনীতির ক্ষেত্রে বুদ্ধির খেলা খেলে। তবে তারা রাজনীতির সূত্রসমুহের পাশাপাশি ইসলামী সূত্রও অনুসরণ করে। ফলে তাদের জন্য রাজনৈতিক “চাল“ দেয়া একটু কঠিন।“চাল“ দেয়ার আগে তারা তুলনামূলক সময় বেশি নেয়। তাদের দেয়া “চাল“ বুঝতে অনেক সময়ই কষ্ট হয়। যারা শুধু জাগতিক বা ধর্মের সূত্র দিয়ে ইসলামপন্থীদের বুঝতে চায় তাদের জন্য ইসলামী রাজনীতির “চাল“ বোঝা কঠিন।

দাবায় চার রকমের ফলাফল হতে পারে।

১. জয়

২. পরাজয়

৩. বিরোধী পক্ষকে ড্র করতে বাধ্য করা

৪. বা নিজে বাধ্য হয়ে ড্র করা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাগতিক ক্ষমতার রাজনীতি বিবেচনায় এখন একমাত্র জয়ী দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও তার মিত্ররা এখন পরাজিত দল। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ কেউ আ’লীগ বলয়ে আর কেউ কেউ বিএনপি বলয়ে আছে। আবার কেউ কেউ রাজনীতির মাঠ থেকে উঠে গেছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ  আলীগ-বিএনপি কোন বলয়েই নাই আবার মাঠও ছাড়ে নাই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই অবস্থাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?

যারা পশ্চিমের শেখানো বাইনারি সিস্টেমের বাইরে চিন্তা করতে পারে না তারা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকেও আলীগ-বিএনপির দুই বলয়ের এক বলয়ে ফেলতে চায়। এবং যেহেতু বিএনপি বলয়ের সাথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একটি প্রায় ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব আছে সেজন্য তারা সহজেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে আ’লীগ বলয়ে ফেলতে চান।

  • কিন্তু সমস্যা হলো, তাদের স্বজাতীর বহু জন আ’লীগ বলয়ের সাথে এতো খোলাখোলি মেলামেশা করেছে যে, ইসলামী আন্দোলনকে এখন আ’লীগ বলয়ের বলাটা হাস্যকর শোনায়।

তখন হাজির করা হয় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ। এবং এই “বিশ্লেষণের“ প্রধান ও একমাত্র সূত্র হলো, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে সরকার এতো এতো লোক নিয়ে রাজনীতি করতে দেয় কেন? অন্যরা মার খায় কিন্তু ইসলামী আন্দোলনকে মারে না কেন?

এই সূত্র উৎপত্তির দু্ইটা কারণ।

এক. ঈর্ষা ও পরশ্রীকাতরতা। “আমি মার খাই তুই খাস না কেন“ বা “আমি যেহেতু মার খাচ্ছি তাই তোকেও মার খেতে হবে“ ধরনের অসুন্দর কামনা। যদিও মুমিনের কামনা হওয়ার কথা ছিলো, আমি মার খাইলে খাই তবুও আমার ভাই ভালো থাকুক।

দুই. রাজনীতি না বোঝা। রাজনীতিতে যে জয়-পরাজয়ের মাঝখানে “ড্র“ বলে খেলাকে আটকে দেয়ার একটা পন্থা আছে তা না জানা।

রাজনীতিতে শত্রুর শত্রু বন্ধু হয়। পরস্পর যুদ্ধরত উভয় পক্ষের শত্রু যে উভয় পক্ষেরই বন্ধু হিসেবে ফায়দা তুলতে পারে সেটা অনুধাবন না করার কারণেই এমনতর হালকা প্রশ্ন ওঠে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে বহুকাল আগে থেকেই নৌকার দালাল বলার চেষ্টা করা হয়েছে। যারা বলেছেন তারা সবাই ধানের শীষের মধু খেয়ে শেষ করে নৌকায় উঠে মধুচন্দ্রিমাও করে ফেলেছেন।

  • অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই শুরু থেকেই নৌকা-ধানের বাইরে ইসলামী স্রোতধারা তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এই কাজ করতে গিয়ে তারা বাংলাদেশের রাজনীতির চরিত্রকে কাজে লাগিয়ে দুই দৈত্যকেই এড়িয়ে কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু কারো কারো কাছে এই এগিয়ে যাওয়াটা ভালো লাগছে না। তারা লেজকাটা শেয়ালের মতো সবারই লেজ কাটার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যখন পারছেন না তখন উদ্ভট সব তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ হাজির করছেন।

কিন্তু এইসব বকওয়াজ যে তাদের অন্তরের মলিনতা ও বুদ্ধির স্বল্পতার বিজ্ঞপ্তি হয়ে দাড়াচ্ছে তা কি তারা বুঝতে পারছেন?

পরিশেষে বলবো, ধানের শীষের মধু খাওয়া ও নৌকা ভ্রমন তো অনেক হলো। এখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাথে কাজ করুন। আগামী ইসলামী বিপ্লবের পথ রচনায় কাজ করুন। বাংলাদেশে ইসলামী ধারাকে এগিয়ে নিতে কাজ করুন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চরমোনাই পীর সাহেবের সংগঠন না। এখান কোন “আব্বা“ নাই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এদেশের জনমানুষের সংগঠন। এখানে নেতৃত্ব নিয়ে কাড়াকাড়ি না বরং নেতৃত্ব এড়ানোর জন্য পীড়াপীড়ি হয়। এখানে মেধার ভিত্তিতে দায়িত্ব অর্পিত হয়। এখানে কাজ হয় নীতিমালা অনুসারে। এখানকার অর্জন কেউ কোথাও বিক্রি করে না। এখানকার অর্জন গাড়ি-বাড়িতে রুপান্তরিত হয় না। এখান অর্জন কোন একক ঠিকানায় জমা হয় না।

  • এটা জনগণের সংগঠন। এখানকার আমীর, নায়েবে আমীর, মহাসচিব একই দস্তরখানে কর্মীদের সাথে খানা খান। নিজ হাতে খাবার ‍তুলে দেন। একই ভাবে কর্মীদেরকে নিজ হাতে সাফল্যের বরমাল্য তুলে দেন। ভুল হলে কাছে ডেকে মায়া নিয়ে শুধরে দেন। ব্যর্থতার দায়ভার কর্মীদের ওপরে না চাপিয়ে নিজেরা সেই দায় নিয়ে কর্মীদের রক্ষা করেন। খাবার সবাইকে নিয়ে ভাগ করে খান। একই ভাবে সাফল্যকেও সবার সাথে মিলে শুকরিয়ার সাথে গ্রহণ করেন।

অতএব, আপনি দ্বিধাহীন চিত্তে এখানে কাজ করতে পারেন। আপনার কাজ আপনারই থাকবে। দুনিয়া ও আখেরাতে আপনার পরিশ্রমের ফলাফল আপনিই পাবেন।

বি.দ্র.

১. এখানে দাবা খেলাকে জায়েজ বলা হয় নি বা দাবা খেলাকে উৎসাহিতও করা হয় নি। কারো কাছে এমনটা মনে হলে সেটা কেবলই তার নিজস্ব চিন্তার বহিঃপ্রকাশ।

২. এখানে কাউকে আঘাত করা বা কারো কোন উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হয়নি। যদি কারো সাথে এটা মিলে যায় তাহলে তা নিছকই কাকতালীয়। সেজন্য আগ্রীম ক্ষমাপ্রার্থী।

৩. “চাল“ শব্দকে পদক্ষেপ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রসঙ্গ অনুসারে “চাল“ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

লেখকঃ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংগঠক

আপনার মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category