আজ ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ইসির পদত্যাগ ও তিন সিটিতেই পুন:নির্বাচনের দাবি ইসলামী আন্দোলনের

আইএবি নিউজ: বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, অনিয়ম ও ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, তিন সিটি নির্বাচনে ভয়াবহ ভোট ডাকাতি করে সরকার নির্বাচনের মাজাকে ভেঙ্গে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক পদে থেকে নির্বাচন কমিশন দলীয় তল্পিবাহক হিসেবে পরিচয় দেয়ায় ইসির পদত্যাগও দাবি করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, যুব আন্দোলনের সভাপতি কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা নেছার উদ্দিন, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মাওলানা আতাউর রহমান আরেফী, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী প্রমুখ।
তিনি বলেন, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীর ভোট ডাকাতি, অনিয়ম ও আমাদের এজেন্টদেরকে জোরপূর্বক ভোট সেন্টার থেকে বের করে দেয়া এবং ভোটারদের ভোটদানে হুমকির প্রতিবাদে ৩ সিটিতেই নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তিনি সিটি নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে তিন সিটিতে নতুন করে নির্বাচন দিতে হবে। সেই সঙ্গে মাজা ভাঙ্গা ও দলীয় তল্পিবাহক ইসির পদত্যাগ করতে হবে।
বরিশাল সিটিতে সকল ভোট কেন্দ্রে হাতপাখার এজেন্টদেরকে সকাল ৯টার মধ্যে জোরপূর্বক বের করে দেয়া হয়। জাল ভোট দেয়ার শতাধিক ভিডিও ফুটেজ আমাদের সংগ্রহে আছে। অনেকগুলো জাতীয় দৈনিকে সকল ভোট কেন্দ্র সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে দখলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। রাজশাহী সিটিতে ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টিফিনের নামে ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। দুপুর ২টার দিকে ভোটারদেরকে ভোট কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়া হয়। ১নং ওয়ার্ড কাশিয়াডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নগরপাড়া কেন্দ্র দখল করে নৌকা মার্কায় জাল ভোট দেয়া হয়। বালাজান নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১নং ওয়ার্ড শফিক এর এলাকা থেকে ভোটারদেরকে বের করে দিয়ে ভোট ডাকাতি করা হয়। ৩০ নং ওয়ার্ডে ভোটারদেরকে ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয় নাই। সিলেট সিটিতে ২০ নং ওয়ার্ডে নবীন চন্দ্র কেন্দ্রে সকাল ৯.৩০ মিনিটে কাউন্সিলর আমাদের নেতৃত্বে জোর ভোট দেয়া হয়। ২১ নং  ওয়ার্ডে সোনার পাড়া পুরুষ ও মহিলা সেন্টারে রঞ্জিত সরকারের নেতৃত্বে হামরা, কেন্দ্র দখল এবং জাল ভোট দেয়া হয় এবং  এসময আহত হয আমাদের পোলিং এজেন্ট আব্দুল্লাহ আরাফাত। সকাল ১১টায় ২১ নং ওয়ার্ড হাতীম আলী পুরুষ ও মহিলা সেন্টারে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যায়। ৮নং ওয়ার্ডে পাটানটুলা জামেয়ার ৩টি কেন্দ্র তাদের দখলে নেয়া হয় এবং সেখানে আমাদের এজেন্ট মাওলানা নুরুল ইসলামকে বের করে দেয়া হয়। ২৪ নং গরম দেওয়ান সেন্টার দখল ও জাল ভোট প্রদান করা হয়। ১৮ নং মডেল স্কুলে ব্যালট ছিনতাই করা হয়। ২৬, ২৭ নং এর ৩টা কেন্দ্র দখল করা হয়। দুপুর ১২ টায় এবং দেশীয় অশ্র নিয়ে  হামলা করা হয়। ৮নং ওয়ার্ডের বীরেশ চন্দ্র হল দখল করা হয়। ১৯ নং ওয়ার্ডের সার্ক সেন্টারেও ব্যালট শেষ হযে যায় দুপুরের মধ্যে। ১৮ নং ওয়ার্ডে কাজী জালাল কেন্দ্রে জাল ভোট প্রদান এবং ভাংচুর করা হয়। ২০ নং ওয়ার্ডে এম, সি হোস্টেলের ভোটারহীন ছাত্রদেরকে জাল ভোট প্রদানে বাধ্য করা হয়েছে। ২৬ নং ওয়ার্ডে এর সকর কেন্দ্রে জাল ভোট প্রদান করা হয়। ৩নং এ ব্লু-বার্ড স্কুলে ব্যালট ছিনতাই ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ২৭ নং ওয়ার্ডের হবিনন্দি সেন্টার থেকে আমাদের এজেন্ট বের করে দেয়া হয়েছে। আম্বর খানা দরগাহ গেইট প্রাঃ বিদ্যালয়ে অশ্র নিয়ে মহরা ও সরকারী দলের প্রায ২০০ জনের একটি টিম কেন্দ্রের সকল ব্যালট পেপার বক্সসহ ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি প্রায় একশত পচিশ সেন্টার থেকে আমাদের এজেন্ট জোর করে বের করে দেয়া হয়েছে।
মহাসচিব বলেন, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে সরকার নির্বাচনের নামে যা করেছে তা সকল তান্ডবকে হার মানিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে এধরণের নির্বাচন করায় জনগণের মনে নির্বাচন নিয়ে এক ধরণের শঙ্কা সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দল অংশ নিবে কিনা তা সংশয় রয়েছে।
 

আপনার মতামত দিন
937Shares

স্যোসাল মিডিয়াতে দেখুন আমাদের সংবাদ

Follow us on Facebook Follow us on Twitter Follow us on Pinterest 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     একই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ