আজ ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঈদের আগে মূর্তি অপসারণ না করলে ঈদের পর কঠোর আন্দোলন: পীর সাহেব চরমোনাই

আইএবি নিউজ : সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসারণের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসুচী ছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে আজ। কিন্তু পুলিশ বিক্ষোভ করতে দেয়নি ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদেরকে। পরে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে দলটি। প্রতিবাদ সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় নেতৃবৃন্দ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে না দিয়ে বাক স্বাধীনতা হরণ করে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। ধৈর্য্যের সীমা অতিক্রম করলে গণমানুষের রুদ্ররোষ তৈরি হবে। তখন নাস্তিক-মুরতাদরা এদেশে এক মুহুর্তও টিকতে পারবে না।
পীর সাহেব বলেন, মুসলমানদের ঈমান, ধর্ম-বিশ্বাস এবং স্বকীয় সংস্কৃতির উপর আজ জাতীয়ভাবে আঘাত করা হচ্ছে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে আমরা শঙ্কিত। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে মূর্তি অপসারণ করার ১দিনের মাথায় পুন:স্থাপন করে মুসলমানদের সাথে তামাশা করা হয়েছে। পীর সাহেব বলেন, গ্রিক দেবীর মূর্তির ইতিহাস কোন ধর্মে নেই। কাজেই নারী মূর্তিকে ন্যায় বিচারের প্রতীক মনে করে তা স্থাপন ইসলামের বিরুদ্ধে বড়ধরণের ষড়যন্ত্র। যারা মূর্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তাদের ঈমান নেই। মূর্তির পক্ষে অবস্থান নিলে মুসলমান থাকতে পারে না। তিনি বলেন, আমরা লুকোচুরি চাই না, মূর্তি অপসারণ চাই। শুধু গ্রিক মূর্তি নয়, কোন ধরণের অশ্লীল মূর্তি বাংলাদেশে থাকতে পারবে না।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) বাদ জোহর পুরানা পল্টনস্থ আইএবি কমপ্লেক্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে  বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, নগর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন ও আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, নগর সেক্রেটারী মাওলানা এবিএম জাকারিয়া ও মোঃ মোশাররফ হোসেন, ডা. কামরুজ্জামান, মাওলানা এইচ এম সাইফুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল কাদের, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, শ্রমিকনেতা আল আমিন সাইফী, যুবনেতা মুফতি মানসুর আহমদ সাকী, ছাত্রনেতা শরীফুল ইসলাম।
পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন, আল্লাহ ন্যায় বিচারের সকল পদ্ধতি পবিত্র কুরআনে লিপিবদ্ধ করেছেন। আর আল্লাহর রাসূল সা. তা পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করেছেন। এজন্যই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায় বিচারকরূপে প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা মূর্তি থেকে পরিপূূর্ণরূপে দূরে থাকো’- সূরা হজ : ৩০। অন্য আয়াতে বলা হয়েছেন ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মূর্তিপূজা ও শিরক কখনো ক্ষমা করবেন না’-সূরা নিছা : ৪৮। আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন মূর্তি ভাঙার জন্য। রাসূল সা. বলেছেন, আমি আবির্ভূত হয়েছি মূর্তি ও বাদ্যযন্ত্র ধ্বংসের জন্য।
পীর সাহেব বলেন, মূর্তি সাম্প্রদায়িকতার প্রতীক, এর জায়গা মন্দিরে। মূর্তি বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে, মূর্তি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত মুসলমানরা ঘরে ফিরবে না। রক্ত ও জীবন দিয়ে হলেও মূর্তি রুখে দিবে। তিনি বলেন, মূর্তি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী মল্লযুদ্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুসলমানরা মল্লযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। সে যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।
মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, মূর্তির পক্ষাবলম্বনকারীরা মস্তিস্ক বিকৃত। তাদের ঈমান নেই। আল্লাহও তাদের রেহাই করবেন না। আল্লাহর দেয়া অধিকার যারা কেড়ে নেয়, তারা আল্লাহর দুশমন। তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষের ঈমান-আকীদা ও বোধ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মূর্তি স্থাপন করে প্রধান বিচারপতি অনুচিত কাজ করে তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। সময় থাকতে মূর্তি সরান না হলে ঈমানদার জনতা উত্তেজিত হলে আখের রক্ষা হবে না।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও ইনু, মেনন, নূর ও মাইনুদ্দীন খান বাদলসহ মূর্তিপ্রেমী ইসলাম বিদ্বেষী একটি মহল যেভাবে উষ্কানীমূলক কথাবার্তা বলছে তাতে তাদের জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়াটা দেশবাসীর জন্য লজ্জার বিষয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনাকে জনগণ মূর্তির প্রধানমন্ত্রী বলতে শুরু করেছে। কাজেই মূর্তির প্রধানমন্ত্রী থাকবেন নাকি মুসলমানদের প্রধানমন্ত্রী হবেন সেটা আপনি চিন্তা করে দ্রুত মূর্তি অপসারণ করুন। মূর্তি ঈদের আগেই সরাতে হবে। না হলে ঈদের পর কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।

আপনার মতামত দিন
3.7K+Shares

স্যোসাল মিডিয়াতে দেখুন আমাদের সংবাদ

Follow us on Facebook Follow us on Twitter Follow us on Pinterest 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     একই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ