আজ ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে পলোগ্রাউন্ড ময়দানে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিল শুরু

চট্টগ্রাম : চরমোনাইয়ের নমুনায় চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড ময়দানে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল আজ (বৃহস্পতিবার) বাদ জোহর চরমোনাইয়ের পীর সাহেব হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (দা. বা.)-এর উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহপ্রদত্ত শরীয়ত ও রাসূলে খোদা (সা.)-এর তরীকা অনুসরণ না করে অলী হওয়া যায় না। অনেকে মনে করেন, শুধু তাসবীহ-তাহলীল ও পীর-মুরীদী করলেই মানুষ অলী হয়ে যাবেন। সমাজ, রাষ্ট্র, বাণিজ্যসহ সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জীবনাদর্শ পুরোপুরি মানতে হবে।
চরমোনাইয়ের মাহফিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (দা. বা.) বলেন, চরমোনাই প্রচলিত কোনো দরবারি পীরপ্রথা নয়। নিঃসন্তান দম্পত্তিদের সন্তান লাভ, ছেলে-মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়া, মামলা-মোকাদ্দমায় জয়লাভের উদ্দেশ্যে চরমোনাইয়ের তরীকায় এসে কোনো লাভ হবে না। এসব ক্ষমতা কোনো পীরের হাতে নেই। সবসমস্যার সমধান যার হতে, যিনি দাতা সেই মহান আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সম্পর্ক করে দেওয়াই চরমোনাইয়ের মাহফিলের উদ্দেশ্য। পীর সাহেব হুজুর (দা. বা.) বলেন, সমাজ, রাষ্ট্র ও বাণিজ্যসহ মানব-জীবনের প্রতিটি বিষয়ে ইসলাম সর্বোত্তম ও সুন্দর নীতি-আদর্শ উপহার দিয়েছেন। বৈরাগ্য, সন্ন্যাসব্রত ও শুধু তাসীবহ-তাহলীলে লিপ্ত থাকার নামই ধর্ম নয়, এটি ধর্মের অপব্যাখ্যা। শত্রুদের প্রপাগাণ্ডা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ইসলামকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে পীর সাহেব হুজুর সর্তক করেন।
মাহফিলে আরও বয়ান পেশ করেন ঢকা ইসলামী একাডেমীর পরিচালক হযরত মাওলানা মুফতী হেদায়তুল্লাহ আজাদী, চরমোনাইয়ের মরহুম পীর সাহেব হুজুরের খলীফা মাওলানা আবদুল মজীদ, মাওলানা রাশেদুল ইসলাম রহমতপুরী, মাওলানা শেখ আমজাদ হোসাইন, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জিহাদী, মাওলানা হাবিবুর রহমান আতিকী, মাওলানা মুফতী ইবরাহীম আনোয়ারী, মাওলানা কামাল উদ্দীন সাকী প্রমুখ।
আগামীকাল (শুক্রবার) বৃহত্তর জুমা পলোগ্রাউন্ড ময়দানে, বাদ জুমা ওলামা-মাশায়েখ ও সুধী সম্মেলন হবে। প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দেওবন্দের সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা মুনীরুল ইসলাম (দা. বা.)। এছাড়া পলোগ্রাউন্ড ময়দানে চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ জুমার জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। জুমার নামাযের পূর্বে বিশাল জামায়াতে আমীরুল মুজাহিদীন মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বয়ান পেশ করবেন। এদিকে জুমার নামাযের পরপরই জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ ও আইয়িম্মা পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে বিশাল ওলামা-মাশায়েখ ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে হযরত পীর সাহেব চরমোনাই ভাষণ দেবেন।
আগামী কালের মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র দারুল উলুম দেওবন্দের সিনিয়র মুহাদ্দিস উস্তাযুল উলামা শায়খ মুনীরুল ইসলাম (দা. বা.) তাশরীফ আনবেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর পীরে কামেল আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার প্রধান মুফতী ও মুহাদ্দিস আল্লামা শাহ আহমদুল্লাহ, জামিয়া উবাইদিয়া নানুপুরের শায়খুল হাদীস আল্লামা শায়খ আহমদ, নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন চরমোনাইয়ের মরহুম পীর সাহেবের সুযোগ্য সাহেবজাদা আল্লামা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ মুসাদ্দিক বিল্লাহ আল-মাদানী, আল্লামা হাবীবুর রহমান কাসেমী, আল্লামা শাহ তাজুল ইসলাম ও ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনসহ দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও শীর্ষস্থানীয় পীর-মাশায়েখ তাশরীফ আনবেন।
এক নজরে মাহফিলের কার্যক্রম
• পীর সাহেব হুজুরের বয়ান: প্রত্যেহ ফজর ও এশার নামাযের পর হযরত পীর সাহেব হুজুর চরমোনাই বয়ান পেশ করবেন।
• শ্রমিক সমাবেশ: ২৯ ডিসেম্বর (শুক্রবার), সকাল ৯ ঘটিকায়, মাহফিলের ময়দানে, প্রধান অতিথি: হযরত পীর সাহেব হুজুর চরমোনাই।
• ছাত্র গণজমায়েত: ৩০ ডিসেম্বর (শনিবার), সকাল ৯ ঘকিটায় মাহফিলের ময়দানে, প্রধান অতিথি: হযরত পীর সাহেব হুজুর চরমোনাই।
• আখেরি মুনাজাত: ৩১ ডিসেম্বর (রোববার), ফজরের নামাযের পর বয়ান ও আখেরি মুনাজাত, পরিচালনা করবেন: হযরত পীর সাহেব হুজুর চরমোনাই।

আপনার মতামত দিন
1K+Shares

স্যোসাল মিডিয়াতে দেখুন আমাদের সংবাদ

Follow us on Facebook Follow us on Twitter Follow us on Pinterest 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     একই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ