আজ ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির আইন পাশ করতে হবে: ইশা ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ

সরোয়ার, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: সোমবার (২২ জুন’২০২০) সকাল ৯টায় নারায়ণগঞ্জ শিবু মার্কেটের আইএসসিএ মিলনায়তনে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে শাখার সভাপতি শিব্বির আহমাদ এর সভাপতিত্বে ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় কর্মী সভা ২০২০ অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত কর্মী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কে.এম. শরীয়াতুল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে.এম. শরীয়াতুল্লাহ বলেন, একটি সভ্য সমাজের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিনিধিত্বপূর্ণ সমাজব্যবস্থা। আর তাই প্রতিনিধিত্বপূর্ণ সমাজ দিয়েই আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে মানব সভ্যতার সূচনা করেছিলেন। আদি পিতা হজরত আদম (আ.) ছিলেন মানবজাতির প্রথম প্রতিনিধি ও প্রথম নবী। যুগে যুগে মহান আল্লাহ তাআলা যত নবী ও রাসুল হিসেবে পাঠিয়েছেন, তাদের সবাইকেই সমকালীন মানবগোষ্ঠীর সর্বোত্তম গুণাবলির অধিকারী করে ঐ সমাজের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বস্তুত জনপ্রতিনিধি বিশাল জনগোষ্ঠীর সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বহন করেন। জনপ্রতিনিধির সামগ্রিক যোগ্যতা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার ওপর ভিত্তি করে কোনো সমাজ ও জাতির ভবিষ্যৎ নির্মিত হয়। সুতরাং জনপ্রতিনিধির বৈশিষ্ট্যগুণে যেমন একটি সমাজ ইতিহাসের স্বর্ণচূড়ায় আরোহণ করতে পারে, তেমনি তার ব্যর্থতা একটি জাতিকে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করতে পারে।

কে.এম. শরীয়তুল্লাহ আরো বলেন, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হয়েও রাসুল (সা.) উম্মতের সেবা করে গেছেন জীবনভর। সাহাবায়ে কেরামও (রা.) রাসুল (সা.)-এর এ শিক্ষা ও আদর্শ লালন করেছিলেন। ফলে তাদের শাসনামলে জনসাধারণ উন্নত জীবনযাপনের পাশাপাশি বেশ সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে আমরা বাংলাদেশে কি দেখতে পাচ্ছি? বাংলাদেশের মানুষ কি সুখে আছে? জনপ্রতিনিধিরা কি এদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে? আজকে জনপ্রতিনিধিরা মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিরা জনকল্যাণমূলক রাজনীতি করে না। যদি জনকল্যাণমূলক রাজনীতি করতো তাহলে নেতারা রাতারাতি আঙুল ফুলে বটগাছ হতে পারতো না। যদি নেতাদের ভিতরে আল্লাহভীতি থাকতো তাহলে নেতারা গরীবের হক সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাৎ করতে পারতো না। অন্যায়ভাবে অসহায় মানুষকে নির্যাতন করতে পারতো না। মানুষের বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নিতো না।
তাই ইশা ছাত্র আন্দোলনের প্রতিটি দায়িত্বশীলকে আগামীতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ থেকে সকল দূর্নীতিবাজ ও চোরদের হটিয়ে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের মানুষের প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। সর্বোপরি একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে শিব্বির আহমাদ বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারীতে স্তব্ধ হয়ে গেছে জনজীবন। এই মহামারীর মধ্যেই কিছু কুলাঙ্গারদের জন্য আমাদের দেশে ঘটতেছে কিছু ন্যাক্কারজনক ঘটনা। সম্প্রতি লক্ষীপুর সদর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়নের পশ্চিম গোপীনাথপুর গ্রামে হীরামনির সাথে ৫ কুলাঙ্গার কর্তৃক যে ঘটনা ঘটেছে আমরা এই নিন্দনীয় কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দোষীদের গ্রেফতার পরবর্তী ফাঁসির দাবী জানাচ্ছি। দিন দিন বাড়ছে ধর্ষণ, বাড়ছে ধর্ষণের পর হত্যা। কখনো বিউটি, কখনো সীমা কিংবা ইয়াসমিন, কখনো তনু, নুসরাত। সামাজিক অবক্ষয়, মাদকের বিস্তার, কর্মহীনতা, আকাশ সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব, আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকা, পর্নোগ্রাফির অবাধ প্রসার; সর্বোপরি নারীর প্রতি পুরুষের হীন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা। শিশু থেকে কিশোরী, যুবতী থেকে বৃদ্ধা, স্কুল ছাত্রী থেকে পোশাককর্মী, ডাক্তার, আইনজীবী এমন কি ভিখারিনীও রেহাই পাচ্ছে না মানুষরূপী এসব হায়েনাদের হিংস্র থাবা থেকে। ধর্ষকরা শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত থাকছে না, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ঘটাচ্ছে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ধর্ষিতাদের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ হচ্ছে, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন হচ্ছে দেশের আনাচে কানাচে। মিছিলে স্লোগান উঠছে, অপরাধীর ফাঁসি চাই। আল্টিমেটাম দেওয়া হচ্ছে কখনো ৪৮ ঘণ্টার, কখনো আবার তিন দিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, অন্য ঘটনার আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় পুরনো সব ঘটনা। বড়ই দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় যে দেশে নারী রাজত্ব, নারী প্রধানমন্ত্রী,নারী বিরোধী দলীয় নেত্রী, নারী স্পিকার, আরেকটি বড়দল বিএনপি চেয়ারপার্সন নারী এমনকি দেশের বহু বড় বড় চেয়ারগুলো নারীদের দখলে সেদেশে নারীদের এমন সম্মানহানী কাম্য নয়।

জেলা সভাপতি শিব্বির আহমাদ আরো বলেন, প্রতিদিন খবরের কাগজ হাতে নিয়ে ভাবতে হয় কেমন খবর দিয়ে আজকের পত্রিকা পড়াটা শুরু হবে। বিশেষ করে ধর্ষণের বিষয়টি যেন পত্রিকার প্রতিদিনের খবর। ২০১৯ সালে ৫ হাজার ৪০০ নারী এবং ৮১৫টি শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। ২০১৮ সালে শিশু ধর্ষণের মামলা ছিল ৭২৭টি এবং নারী ধর্ষণের মামলা ছিল ৩ হাজার ৯০০টি। ২০১৯ সালে ধর্ষণের কারণে ১২ শিশু এবং ২৬ জন নারী মারা যান। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ২১ নারী ও ১৪ শিশু। সারা দেশে ধর্ষণের ঘটনা আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। ২০১৯ সালে সারা দেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার ১ হাজার ৪১৩ নারী ও শিশু। ২০১৮ সালে সংখ্যাটি ছিল ৭৩২। দিন দিন ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে ধর্ষকদের বিচার না হওয়া। ধর্ষণরোধে ধর্ষকদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং ধর্মীয় জ্ঞান শুধু শিখার জন্য শিখা নয় বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন ঘটাতে সরকারকেই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাই আজকের কর্মী সভা থেকে সরকারের প্রতি তীব্র দাবি জানাচ্ছি ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির আইন পাশ করুন এবং বাস্তবায়ন করুন।

উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগ্রামী ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মুহা.

আপনার মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category