আজ ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক সংকট ঘনীভূত করবে : ইশা ছাত্র আন্দোলন

দেশের শীর্ষ ছাত্র সংগঠন ইশা ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সাংগঠনিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মজলিসে আমেলার এক বাজেট পর্যালোচনা বৈঠক শেষে তিনি বলেন, নির্বাচনী ব্যয় আহরণ ও নির্বাহের কথা বিবেচনা করে যে বাজেট পেশ করা হয়েছে তাতে ধনী ব্যাংক মালিক ও শীর্ষ ধনকুবেররা কর হ্রাসের সুযোগ নিয়ে আরো ধনী হবে। তীব্র বেকারত্ব ও পরিবহন সংকটের দেশে তরুণরা যখন অনলাইন কেন্দ্রিক বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিচ্ছে সেগুলো পূর্ণ বিকশিত হওয়ার পূর্বেই করজালে আটকে ফেলা হয়েছে। যেখানে এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগে সরকারের প্রণোদনা দেয়ার কথা উল্টো সেখানে করারোপ উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বাধার সৃষ্টি করবে। এ বাজেটে সাধারন মানুষের কল্যাণচিন্তা করা হয়নি। ফলে আয়বৈষম্য আরো বাড়বে। প্রান্তিক ও মধ্যবিত্ত্ব শ্রেণীর জীবনমান উন্নয়নের কোন পদক্ষেপ তুলে ধরেননি অর্থমন্ত্রী। ব্যাংকিং ও শেয়ার মার্কেটের লুটপাট বন্ধে এ বাজেট ভূমিকা রাখবে, এমনটা মনে হয় না। আকারে চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেটে ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে এক চতুর্থাংশের বেশী। যা জনগণের উপর বিদেশী ঋণের বোঝা মাথাপিচু ৬০ হাজার টাকা চাপাবে। সমৃদ্ধ আগামী পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল লক্ষ্য ‘দারিদ্র্য দূরীকরণ ও অসমতা হ্রাস দাবী করা হলেও পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে দারিদ্র ও অসমতা বৃদ্ধিই পাবে। ঘুরে ফিরে ব্যক্তি কতেকের পকেটকেই কেবল সমৃদ্ধ করবে এ বাজেট”
সহ-সভাপতি শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ধনীদের ছাড় দিয়ে বিভিন্ন পণ্যের উপর যে ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে জনগণের ক্রয় ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এবং প্রস্তাবিত বাজেটে সুপারশপে কেনাকাটায় মূল্য সংযোজন কর (মূশক) ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। যা মধ্যবিত্তদের উপর চাপ বাড়বে।
সেক্রেটারি জেনারেল এম হাছিবুল ইসলাম বলেন, এ বাজেটে বিপুল শিক্ষিত বেকারদের জন্য কোন সুখবর নেই। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। বাজেট এবং একই সাথে অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবায় যুব শ্রেণির এগিয়ে এসেছে। কিন্তু সেখানেও করারোপ করার সিদ্ধান্ত অনৈতিক হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা , রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে উন্মুক্ত আলোচনা করে প্রস্তাবিত বাজেট পুনঃসংশোধনের দাবী জানিয়ে বলেন, অন্যথায় এ বাজেট অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না। যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট আরো ঘনীভূত হবে।
বাজেট পর্যালোচনা বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
 

আপনার মতামত দিন
283Shares

স্যোসাল মিডিয়াতে দেখুন আমাদের সংবাদ

Follow us on Facebook Follow us on Twitter Follow us on Pinterest 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     একই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ