আজ ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ফেনীতে মুসলিম হত্যার প্রতিবাদে যুব আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা

হাসান মাহমুদ, ফেনী (জেলা) সংবাদদাতা : আজ সোমবার (২রা অক্টোবর) বাদে আছর ফেনীর ঐতিহাসিক জহিরিয়া চত্বর হতে ইসলামী যুব আন্দোলন ফেনী জেলার উদ্যোগে বৌদ্ধ খুনি সুকান্ত বড়ুয়া কর্তৃক ফেনীর ICST’ কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক পেয়ার আহম্মদ মজুমদার হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশি বাধাঁয় তা পন্ড হয়ে যায়।
পরবর্তীতে জহিরিয়া চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা প্রশাসনের এহেন ঘৃণিত কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ হলেও সকল ধর্ম-বর্ণের সৌহাদ্যপুর্ণ সহাবস্থানের এক বিরল দেশ হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত। যেখানে পার্শবর্তী দেশ ভারত ও মায়ানমারে শত শতবার ধর্মীয় দাঙ্গায় লাখো মানুষ মারা গেলেও বাংলাদেশ আজও পর্যন্ত সে কলংক থেকে একেবারেই মুক্ত রয়েছে। এমন একটি ধর্মীয় সৌহাদ্যপুর্ণ দেশে কে বা কারা কাদের ইশারায় এরকম গর্হিত কাজগুলো করে যাচ্ছে তা খতিয়ে বের করতে হবে। যে বৌদ্ধ সম্প্রদায় বাংলাদেশের জনসংখ্যায় ২/৩% এর বেশি হবে না তারা কোন সাহসে এত আস্ফালন ও স্পর্ধা দেখায় তা অতিসত্বর তদন্ত করে বের করতে হবে। অতিসত্বর মুসলিম সেই শিক্ষকের খুনিকে খুজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। এ.নিয়ে কোনরকমের গড়িমসি ও রাজনীতি সহ্য করা হবে না। আর এই কালক্ষেপনের ফলে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর জন্য প্রশাসন দায়ী থাকবেন। এই খুনের যথাযত ব্যবস্থা করা না হলে ইসলামী যুব আন্দোলন কঠোর হতে কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবে”।
মিছিল করতে না পেরে সমাবেশে বিক্ষুব্ধ জনতারা খুনির যথাযত বিচারের দাবীতে গগণবিদারী শ্লোগানে শ্লোগানে আশে পার্শের এলাকা প্রকম্পিত করে তোলে।
উল্লেখ্যঃ রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিতর্কের জের ধরে ফেনী ইন্সটিটিউট অব কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজির আইসিএসটি শিক্ষককে খুন করেছে তার বৌদ্ধ সহকর্মী সুকান্ত বড়ুয়া। গত ২৭ সেপ্টেম্বর খুন করা হয় এই শিক্ষককে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইন্সটিটিউটের গনিত বিভাগের শিক্ষক পেয়ার আহমদ মজুমদার (৩০) সহকর্মী খাগড়াছড়ি জেলার সুকান্ত বড়ুয়া সহ আইসিএসটি ভবনের তৃতীয় তলায় হোস্টেলে থাকতেন। সুকান্ত বড়ুয়া, অপর শিক্ষক বাপ্পি ও কয়েকজন শিক্ষার্থী বুধবার সকালে পেয়ার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে বলে তাকে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পেয়ারের বাবা জাফর আহম্মদ, ভাই জহির আহম্মদ, জাকির হোসেন, ভগ্নিপতি আবু ইছহাক হাসপাতালে ছুটে আসে। পরবর্তীতে লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ণ পেয়ে ময়নতদন্ত করা হলে পুলিশ নিশ্চিত হয় পেয়ার আহমেদ মজুমদারকে খুন করার পরে বিদ্যুৎ এর সর্ট দেওয়া হয় শরীরে। কলেজের অধ্যক্ষ ও কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে গত কিছুদিন ধরে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ নিয়ে সহকর্মী সুকান্ত বড়ুয়ার সাথে পেয়ার আহমদের দ্বন্দ চলছিল। এর জেরেই পেয়ার আহমদ খুন হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আর ঘটনার পর থেকে সুকান্ত বড়ুয়া পলাতক রয়েছে। নিহত শিক্ষক পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। এদিকে পেয়ার আহমদের মৃত্যুতে কলেজ ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে।

আপনার মতামত দিন
0Shares

স্যোসাল মিডিয়াতে দেখুন আমাদের সংবাদ

Follow us on Facebook Follow us on Twitter Follow us on Pinterest 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     একই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ