আজ ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বিপ্লবকামী নেতার প্রয়োজনীয় চারিত্রিক গুণাবলী

আবদুল ওয়াহাব: আমরা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবতার অনাবিল শান্তি নিশ্চিত করার মত একটি মহান স্বপ্ন লালন করি। এই স্বপ্ন অবাস্তবও নয়। মানুষকে এর হাকিকত বুঝাতে পারলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য শান্তিকামী জনতা হুমড়ি খেয়ে পড়বে। তবে বুঝানোর কাজটি দায়িত্বশীলদেরকেই করতে হবে। এজন্য দায়িত্বশীল তথা নেতাদের চরিত্রে কতগুলো দিক না থাকলে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগুনোও সম্ভব নয়।
“দায়িত্বশীল বা নেতা সাধারণ মানুষের তুলনায় অধিকতর বুদ্ধিমান এবং সাহসী হয়ে থাকেন। তার থাকে চমৎকার উদ্ভাবনী ও বিশ্লেষণী শক্তি এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে অতি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মতো ক্ষমতা। তিনি দুঃখ পান না, ভেঙে পড়েন না এবং হতাশার সাগরে হাবুডুবু খান না। মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং বিশ্বাস অর্জনের জন্য দায়িত্বশীল বা নেতার থাকে অসাধারণ এক প্রকৃতি প্রদত্ত চৌম্বক শক্তি। দায়িত্বশীল বা নেতার কথা, কণ্ঠস্বর, বাচনভঙ্গি, মুখচ্ছবি এবং শারীরিক গঠনে এমন এক মহাজাগতিক সৌন্দর্য সন্নিবেশিত থাকে যে, মানুষ মুগ্ধ হয়ে তার পানে ধেয়ে যেতে থাকে। দায়িত্বশীল বা নেতার মানবিক গুণাবলি সমকালীন অন্যান্য মানুষ থেকে শ্রেষ্ঠতর হয়। তিনি হন, অতি উত্তম দাতা। তিনি পরোপকারী এবং সব মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক। তিনি সবাইকে ভালোবাসেন। দায়িত্বশীল বা নেতার প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে কিন্তু তিনি কাউকে শত্রু মনে করেন না। তিনি দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন করে থাকেন। তিনি সর্বদাই নিজেকে উত্তম বিচারক ভাবেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি অপরাধীকে শাস্তি দেন বটে কিন্তু কাউকে অত্যাচার করেন না। তিনি মানুষকে ভালোবাসার জন্য এবং ক্ষমা করার জন্য সর্বদা ওছিলা তালাশ করতে থাকেন।
দায়িত্বশীল বা নেতা অহঙ্কার করেন না- তিনি মিথ্যেও বলেন না। অতিকথন, অতিভোজন এবং মাত্রাতিরিক্ত নিদ্রা নেতার বৈশিষ্ট্য নয়। ভোগবিলাস, আলস্য, সাজসজ্জার বাড়াবাড়ি, অপব্যয় এবং বেহিসেবি চালচলন নেতা সবসময় পরিহার করে চলেন। সত্য, সুন্দর এবং সাধারণত্ব দিয়ে নেতা নিজের জন্য স্বতন্ত্র একটি স্টাইল পয়দা করে থাকেন, যা তার অনুসারীরা যুগ-যুগান্তরে বয়ে নিয়ে যায় নেতার আদর্শের ধারক-বাহক এবং পরিচয়ের সত্তা হিসেবে। দায়িত্বশীল/নেতা রাগান্বিত হন না- কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন না- কাউকে দায়ী করেন না এবং প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করেন না। তিনি কাউকে অপমান করেন না- কারো মনে বেদনার সৃষ্টি হয় এমন কিছু করেন না এবং কাউকে বদদোয়া দেন না। নেতার প্রফুল্লতা সবসময়ই প্রকাশ্যে হয়ে থাকে, যা তার অনুসারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সমান তালে। তার হাঁটা-চলা, চাহনি, কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি সবকিছুর মধ্যে একটি ছন্দময় গতি এবং সুর লহরীর ঝঙ্কার থাকে। ফলে নেতা না চাইলেও মানুষ সবসময় তাকে পরিবেষ্টন করে রাখে নেতৃত্বের অমিয় সুধারস লাভের আশায়।
দায়িত্বশীল বা নেতার দিব্যজ্ঞান, ভিন্নমাত্রার চিন্তাশক্তি এবং ভবিষ্যৎ কল্পনা করার অসাধারণ ব্যুৎপত্তি তাকে সবার মধ্যে সর্বোচ্চ আসনে বসিয়ে রাখে। তিনি সর্বদা ধার্মিক হন। সহনশীলতা, সততা, ধৈর্যশীলতা এবং কৃতজ্ঞতা দায়িত্বশীলের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তিনি হন শান্ত অথচ দুরন্ত। তিনি স্থির থাকেন তবে ছুটে চলার সময় তার দুর্বার গতি সবাইকে ছাড়িয়ে যায়। পরিশ্রম করার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য এবং যুদ্ধের ময়দানে তিনি মহাবীর। তিনি কাউকে অনুসরণ করেন না- সবাই তাকেই অনুসরণ করে। তিনি পরামর্শ করেন- তবে সিদ্ধান্ত নেন একক কর্তৃত্বে। তিনি পরাজয়ের দায়ভার নিজের কাঁধে নেন এবং বিজয়ের কীর্তিগাথা ভাগ করে দেন সবার মাঝে। তিনি একাকী খানাপিনা পছন্দ করেন না। তিনি খেতে এবং খাওয়াতে পছন্দ করেন। তিনি উপহার গ্রহণের তুলনায় উপহার প্রদানকেই শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচনা করেন। তিনি নিয়মিত ধ্যান করেন এবং নিজের নিয়তির বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। তিনি মনমানসিকতায় রক্ষণশীলতা পরিহার করেন এবং অতি উত্তম মানুষজনকে সঙ্গী-সাথী বানানোর জন্য নিরন্তর চেষ্টা করতে থাকেন। তিনি পাথরের বুকে কোনো কিছু খোদাই করার পরিবর্তে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়ার জন্য আমৃত্যু চেষ্টা করতে থাকেন।
আপনার মধ্যে যদি উপরোক্ত গুণাবলি থাকে তবে আপনি অবশ্যই একজন কাম্য মানের দায়িত্বশীল বা নেতা। পৃথিবীর তামাম মাখলুকাত আপনাকে সমীহ করে। আপনি যখন হাঁটেন তখন জমিন দোয়া করে- বাতাস আপনাকে মহব্বতের আলিঙ্গনে জড়িয়ে রাখে। পশুপাখি-বৃক্ষ-লতাসহ ফেরেশতারাও আপনার পাহারাদার হয়ে নিজেদেরকে ধন্য মনে করে। আপনার সফলতা কেবল আপনি নিজে অনুভব করতে পারবেন। অন্যরা আপনার সার্থকতা দেখবে। পৃথিবীবাসীর কাছে নেতার সফলতা এবং স্বার্থকতা অনেকটা আপেক্ষিক। নেতার জীবনে একটি সন্ধিক্ষণ চলে আসে আসমানি হুকুমে- তিনি পথ পেয়ে যান এবং সেই পথ ধরে তিনি পৌঁছে যান রাষ্ট্রক্ষমতায়। অনেক নেতা রাষ্ট্রক্ষমতা পান না। কিন্তু তাতে কী? সত্যিকার নেতা তো ক্ষমতালোভী হন না। জমিনে ক্ষমতার বিস্তার না হলেও মানুষের হৃদয়ে তিনি স্থায়ী আসন পেতে রাজত্ব করতে থাকেন চিরস্থায়ীভাবে।এই অর্জন শতকোটি টাকা ব্যয়ে পাওয়াও অসম্ভব।
তাই আসুন, একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের একজন কাণ্ডারী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে নিজেকেই নিয়ন্ত্রণ করি।আমার বা আপনার এই আত্মনিয়ন্ত্রণ অমর হয়ে থাকবে যুগের পর যুগ।

আপনার মতামত দিন
0Shares

স্যোসাল মিডিয়াতে দেখুন আমাদের সংবাদ

Follow us on Facebook Follow us on Twitter Follow us on Pinterest 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     একই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ