আজ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মালিবাগ ট্রাজেডি: খুনিদের বিচার হয়নি, শহীদদের নিয়ে টানাটানি

সামছ্ আল ইসলাম ভুইয়া : ১৫ আগস্ট। শোকবাহ একদিন। এই দিনে ঘাতকের নির্মম বুলেটে বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হওয়ায়েছ ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এই দিনটিকে করেছে জাতীয় শোক দিবস, আর মালিবাগ মসজিদ রক্ষার আন্দোলনে সরকারি বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের বুলেটে ইশা ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসহ ৪ শহীদদের খুনের এই দিনটিকে ধর্মপ্রাণ মুসলমান বানিয়ে ধর্মীয় শোক দিবস।
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মত ৪ শহিদের বিচার বাংলার মাটিতেই হতে হবে। ২০০২ সালের ১৫ আগস্ট মালিবাগ জামে মসজিদের দেয়াল ভেঙ্গে ও মসজিদের জায়গা দখল করে ততকালীন বিএনপি-জামায়েতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের পোষা সন্ত্রাসী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদগং মার্কেট নির্মাণ করার অপচেষ্টা চালায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এলাকাবাসীর সহায়তায় ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতার নির্দেশে সরকারী বাহীনী আন্দোলনরত জনগণের ওপর গুলি চালায় । এতে শাহাদাত বরণ করেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হাফেজ আবুল বাশার, হাফেজ ইয়াহইয়া, রেজাউল করীম ঢালীসহ জয়নুল আবেদীন নামের এক পথচারী। চারদলীয় জোট সরকার ইসলামেরে দোহাই দিয়ে, ইসলামী মূল্যবোধের তকমা লাগিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার ৬ শহীদদের রক্তের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই মালিবাগ মসজিদ রক্ষার জন্য জীবন দিতে হয়েছিল শহীদদের। এ ঘটনায় ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদের গ্রেফতার তো দূরের কথা বরং তাকে বাঁচাতে জনৈক মন্ত্রীর বাসায় রেখে তাকে নিরাপত্তা দিয়েছিল। রাতের আধারে শহীদের লাশ নিয়ে বিএনপি-জামাাত জোট সরকার তড়িঘড়ি করে দাফন কাফনের ব্যবস্থা করে তাদের অপকর্ম ঢাকা দিতে আরেকটি ঘৃন্য ঘটনার জন্ম দিয়েছিল। তারচেয়ে জঘন্যতম কাজটি করেছিল জোটভুক্ত ইসলামী দলগুলো। তারা এই বিষয়ে একটি বিবৃতি পর্যন্ত দেয়নি।
সেদিন এই শহিদদের পাশে দাড়িয়ে ছিলেন যুগের কালজয়ী মহাপুরুষ সৈয়দ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই রহঃ। মুক্তাঙ্গনে একাধিকবার সমাবেশ করে শহিদদের খুনিদের বিচার চান তিনি। সেদিন তিনি দীপ্তকন্ঠে বলেছিলেন, খুনিদের বিচার ও মসজিদ নির্মাণের দাবি না মেনে গুলি করে আন্দোলন দমানো যাবে না। মালিবাগের ঘটনায় গুলির হুকুমকারীর ফাঁসি চাই।
তারচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, সেদিন শহিদদের পীর সাহেব চরমোনাই রহঃ ব্যতীত আর কোনো অভিভাবক খুঁজে না পাওয়া গেলেও আজ অভাব নেই।
সেদিন সরকারের উচ্ছিষ্ঠভোগী ইসলামী দলগুলো আজ শহিদদের নিয়ে টানাটানি শুরু করেছে। নিজেদের কর্মী পরিচয় দিতে আজ তাদের এতো ততপরতার কি মূল্য আছে? সেদিন শহিদদের বিচার চাওয়ার মত সৎ সাহস যাদের ছিল না। অনুরোধ এজাতীয় সস্তা রাজনীতির নোংরা বস্তা জাতির সামনে খুলবেন না।
আমরা সরকারের প্রতি অবিলম্বে ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদ ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

আপনার মতামত দিন
1.8K+Shares

স্যোসাল মিডিয়াতে দেখুন আমাদের সংবাদ

Follow us on Facebook Follow us on Twitter Follow us on Pinterest 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     একই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ