আজ ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মূর্তি অপসারণ না হলে সুপ্রিমকোর্ট ঘেরাও করা হবে : পীর সাহেব চরমোনাই

আইএবি নিউজ : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, মুসলমানদের ঈমান, ধর্ম-বিশ্বাস এবং স্বকীয় সংস্কৃতির উপর আজ জাতীয়ভাবে আঘাত করা হচ্ছে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে আমরা শঙ্কিত। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গণে এবং জাতীয় ঈদগাহর পাশে গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপন করে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম নাগরিকদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনার উপর সবচেয়ে বড় আঘাত হানা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ এপ্রিল-১৭) বাদ জুমআ বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে সমাবশের সভাপতির বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই এসব কথা বলেন।
মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম, মাওলানা আব্দুল হক আজাদ, মাওলানা নূরুল হুদা ফয়েজী, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মাওলানা আব্দুল কাদের, আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, কেএম আতিকুর রহমান, অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা মকবুল হোসাইন, শ্রমিকনেতা আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, এবিএম জাকারিয়া, এ্যাডভোকেট শেখ আতিয়ার রহমান, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম প্রমুখ।
সমাবেশে পীর সাহেব রমজানের আগেই (২৭ মে) মূর্তি অপসারণ করার দাবী জানান অন্যথায় ১৭ রমজান বদরের চেতনায় সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসুচী এবং ঈদের পর সুপ্রিমকোর্ট ঘেরাও কর্মসুচী ঘোষণা করেন।
পীর সাহেব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মূর্তি কিভাবে এলো, কোথায় থেকে এলো, কে বসালো তিনি তা জানেন না ? আমরা শুনেছি প্রধান বিচারপতির একক সিদ্ধান্তেই মূর্তি স্থাপিত হয়েছে। অন্যান্য বিচারপতিরা মূর্তি স্থাপনে একমত ছিলেন কিনা সুপ্রিমকোর্টের পক্ষ থেকে তা জানানো হয়নি। তিনি বলেন, কাদের স্বার্থে বা কী প্রয়োজনে বিতর্কিত গ্রিক মূর্তি সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হলো। এটা জনতার প্রশ্ন। পীর সাহেব বলেন, প্রধান বিচারপতির গ্রিক দেবীর প্রতি কোন ভক্তি বা অনুরাগ থাকলে এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তার এ পছন্দকে তিনি জাতীয়ভাবে চাপিয়ে দিতে পারেন না। মূর্তি স্থাপন করে তিনি দেশের সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে সংবিধান লংঘন করেছেন। তিনি গণ-মানুষের আস্থা এবং নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। অতএব এমন একজন বিতর্কিত ও অবিবেচক বিচারপতি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির আসনে থাকতে পারেন না। বিতর্কিত বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও ইনু, মেনন, মাইনুদ্দীন খান বাদলসহ মূর্তিপ্রেমী ইসলাম বিদ্বেষী একটি মহল যেভাবে উষ্কানীমূলক কথাবার্তা বলছে তাতে তাদের জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়াটা দেশবাসীর জন্য লজ্জার বিষয়। তিনি আগামীতে এসব বেআদব ও অসভ্য লোকদের কাছে আওয়ামী লীগকে তাদের নৌকা ভাড়া না দেয়ার আহ্বান জানান।
কওমী মাদরাসার সর্বোচ্চ সনদের স্বীকৃতি ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে কওমী সনদের স্বীকৃতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবীও জানান তিনি।
পীর সাহেব ভারত সফর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য কি অর্জন করেছেন এবং স্পর্শকাতর প্রতিরক্ষা সমঝোতার বিষয়ে কি আছে, দেশবাসীর সামনে তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। পীর সাহেব আইন বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধসহ আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য পরিবেশ তৈরি করার আহ্বান জানান। তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ গ্যাস বিদ্যুৎ পানির দাম বৃদ্ধি না করার দাবী জানান। জঙ্গিবাদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ইসলামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই। সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদীরা ইসলাম বিরোধীদের দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে।

আপনার মতামত দিন
21.5K+Shares

স্যোসাল মিডিয়াতে দেখুন আমাদের সংবাদ

Follow us on Facebook Follow us on Twitter Follow us on Pinterest 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     একই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ