আজ ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

২২ সেপ্টেম্বর'২০১৩ আওয়ামীলীগের হৃদকম্পনঃ ইশা ছাত্র আন্দোলনের বিপ্লব

ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন : আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই লক্ষ্য করার যাচ্ছিলো একের পর এক ইসলামের উপর আঘাত। সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস উঠিয়ে দেয়ার মধ্যদিয়ে অঘোষিতভাবে নিজেদেরকে নাস্তিক্যবাদী দল হিসেবে পরিচয় দেয়া, শাহবাগে বাকস্বাধীনতার নামে আন্তর্জাতিক নাস্তিকদের লিডারদের গণজাগরন মঞ্চ বানানোর সুযোগ দেয়া, ইসলামের ফরজ বিধান পর্দার উপরে আঘাত।
২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশের স্বনামধন্য একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি। ছাত্র-ছাত্রীদের অবাধ ও বেপর্দা চলাফেরা দেখলেই বোঝা যায় এখানে কেমন নৈতিক শিক্ষা দেয়া হয়। হ্যাঁ, ব্রাক ইউনিভার্সিটির কথাই বলছি। ব্রাক ইউনিভার্সিটিতে লিখিতভাবে হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়। বহিস্কার করা হয় হাফসা ইসলাম নামের মেধাবী বোনটিকে। ফুসে উঠে বাংলার ধর্মপ্রাণ মুসলমান। থেমে থাকেনি মেধাবী ছাত্র সমাজের প্রিয় সংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। একের পর এক কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাব ময়দান। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীঃ ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধ ও হিজাব পরায় মেধাবী ছাত্রী হাফসা ইসলামকে বহিস্কারের প্রতিবাদে মানব বন্ধন।
সরকারের রক্ষীবাহিনী পুলিশ শক্ত অবস্থানে অবস্থান নিল অত্র এলাকায়। পুলিশের সাথে কথা বললেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ নূর-উন-নবী। কোন কাজ হবে না বলে জানিয়ে দিয়ে পুলিশ জানালেন অত্র এলাকা ছাড়তে। আমরা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারনে প্রেসক্লাবের সামনের ওভারব্রিজে অবস্থান নিলাম।
হঠাৎ করে অঝর ধারায় বৃষ্টি শুরু হল। নেমে পড়লাম প্রেসক্লাবের সামনে। ঐতিহাসিক ও বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হল। কর্মসূচীতে যোগ দিলেন ততকালীন কেন্দ্রীয় মুহতারাম সভাপতি মুহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম ভাই, সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম ভাই, সেক্রেটারি জেনারেল কেএম আনিসুজ্জামান সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। পুলিশ নির্বাক তাকিয়ে থাকে আমাদের দিকে। পথচারীদের ছাতা নিয়ে আসে আমাদের প্রোগ্রাম স্থগিত করার জন্য বলতে। বৃষ্টির বেগ বাড়তেই থাকে। আল্লাহর রহমতে আরিফ ভাই সহ অনেকের প্রতিবাদী বক্তব্য শেষ হল। চলে আসলেন প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী। তার বক্তব্য শেষ হলে আল্লাহর হুকুমে বৃষ্টিও বন্ধ হয়ে গেলো।
প্রোগ্রাম শেষে চলে গেলাম অফিসে। বসলাম পেছনের দিকে। আছরের নামাজ আদায়ের শেষে আরিফ ভাই উঠে দাঁড়ালেন। উনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলেন এবং বললেন আল্লাহর কুদরতের কথা। আরও কিছু ইতিহাস তুলে ধরলেন, যা একটি মকবুল সংগঠন, যেটিকে আল্লাহ কবুল করলে তাঁর কুদরতের দ্বারা দেখিয়ে থাকেন। ঠিক তেমন কয়েকটি নজিরবিহীন ঘটনা তিনি সেদিন আমাদের শুনালেন। সকলের সু-স্বাস্থ্য কামনা করে দোয়া করলেন।
ফলাফলঃ
সেদিন রাতেই ব্রাক ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তাদের লিখিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। সেই রাতেই হাফসা ইসলামের সাথে কর্তৃপক্ষ দেখা করে তাকে হিজাব সহকারে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানায়।
আওয়ামীলীগের হৃদকম্পনঃ
একটি সফল বিপ্লব দেখে আওয়ামীলীগের সেই নীল চোখ যেন এঁটে বসে ইশা ছাত্র আন্দোলনের দিকে। তারা যেন সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে যেভাবেই হোক এই সংগঠনকে দমিয়ে দিতে হবে। নতুবা আওয়ামীলীগের ভবিষ্যতের নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে একমাত্র বাধা হয়ে দাঁড়াবে আপোষহীন এই সংগঠন। যারা সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথে হাঁটে। হেকমত খাটাতে গিয়ে নবীজির সাঃ সুন্নাতকে খাটো করে দেখে না। যাদের উদ্দেশ্য কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের সন্তুষ্টি নয় বরং একমাত্র আল্লাহর রেজামন্দি ও সন্তুষ্টি অর্জন।
আওয়ামীলীগের চেষ্টা ও আমাদের বিপ্লবী সাফল্যঃ
২৫ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা ছাত্রদের ভর্তি রুখে দেয়ার পরিকল্পনা ও আওয়ামীলীগের সাফল্যের ব্যাপারে ইসলামবিদ্বেষী আওয়ামীলীগের অবস্থানকে পরিষ্কার করে আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় মন্তব্য করায় আমাদের কেন্দ্রীয় পেজ থেকে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রেস প্রচার করা হয়।
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩ বিনা উস্কানিতে বিনা নোটিশে সম্প্রচার নাকি কি জানি নীতিমালার নাম দিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে ইশা ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আরিফুল ইসলাম, তৎকালীন প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান গিলমান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ রহমতুল্লাহ বিন হাবীব, মাদ্রাসা বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ এমদাদুল্লাহ সহ ৫ জনকে ধরে নিয়ে যায় সরকারের রক্ষীবাহিনী র‌্যব। চালায় ইতিহাসের বর্বর নির্যাতন। যা জাহেলি যুগকেও হার মানায়।
সেই দিন থেকেই দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে বিপ্লবী আন্দোলন। আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে এমন একটি আন্দোলন শুরু হয়, যার কারনে সরকার টের পেয়ে যায় এদের ভিত্তি কেমন!
সরকার ভেবেছিল টুটি টেনে ধরলেই মনে হয় এরা দমে হয়ে যাবে, স্তব্ধ হয়ে যাবে এদের প্রতিবাদের শক্তি। অথচ এরা সারাদেশে জেলায় জেলায়, থানায় থানায়, মহল্লায় মহল্লায় নিয়মিত ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করে দেখিয়ে দিয়েছিল এরা কেমন সু-সংগঠিত। সরকার অবাক দেশের বুদ্ধিজীবীরা হতবাক হয়ে গেলো। দেশের ছাত্র সমাজ একটি শান্তির ও সত্যিকারের ইসলামী সংগঠনের ছায়াতলে আসার মত পথ খুজে পায়। পরিচয় পায় ন্যায় নীতির সংগঠনের। যার নাম “ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন”।
সহ দফতর সম্পাদক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর

আপনার মতামত দিন
1.1K+Shares

স্যোসাল মিডিয়াতে দেখুন আমাদের সংবাদ

Follow us on Facebook Follow us on Twitter Follow us on Pinterest 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     একই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ