আজ ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শ্রমিকদের শ্রম নিয়ে পুঁজিপতিরা আঙ্গুল ফুলে বটগাছে পরিণত হয়েছে: প্রিন্সিপাল মাদানী

আইএবি নিউজ ডেস্ক: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী বলেছেন, শ্রমিকরা আজ সবচেয়ে বেশি অবজ্ঞা ও বঞ্চনার শিকার। শ্রমিকদের শ্রম নিয়ে পুঁজিপতিরা আজ আঙ্গুল ফুলে শুধু কলাগাছ নয় বটগাছ হলেও শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পায়নি। অথচ ইসলাম শ্রমিকদের সর্বাদিক মর্যাদা দিয়েছে। ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন হলে শুধু মানুষ নয়, পশুরা তাদের অধিকার ফিরে পাবে।
তিনি সকলস্তরের শ্রমিকদের ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার এবং শ্রমিক শোষণ করে পুঁজিপতিদের টাকার পাহাড় গড়া প্রতিহত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মহানবী সা. ঘাম শুকানোর আগেই শ্রমিকদের মজুরি আদায়ের আদেশ দিয়েছেন। মালিক যা খাবেন-পরবেন শ্রমিকদেরও তা খেতে পরতে দিতে মহানবী সা. নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রিন্সিপাল মাদনী বলেন, ১৮৮৬ সালে ১২জন শ্রমিক হত্যাকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী শ্রমিক দিবস পালন হলেও এখনও দেশে দেশে শ্রমিকরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সামান্য অন্যায়কে কেন্দ্র করে লোমহর্ষক নির্যাতন নেমে আসে শ্রমিকদের উপর। ইসলাম প্রতিষ্ঠা ছাড়া মেহনতি মানুষসহ সর্বস্তরের মানুষের মুক্তি নেই। তিনি বলেন, এজন্য আগামী নির্বাচনে হাতপাখাকে জয়যুক্ত করে ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
আজ (১লা মে) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন আয়োজিত বিশাল শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আশরাফ আলী আকনের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম সিদ্দিকুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, এডভোকেট এবিএম শেহাবউদ্দিন শেহাব, উত্তর সভাপতি মুহাম্মদ ঈমান উদ্দিন, পশ্চিম সভাপতি মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, পূর্ব সভাপতি হাফেজ ওবায়দুল্লাহ বরকত, দক্ষিণ সাধারণ সম্পাদক হাফেজ শাহাদাত হুসেন, যুবনেতা মুহাম্মদ ইলিয়াস হাসান, মুফতি আবদুর রহমান বেতাগী, নিমাণ শ্রমিকনেতা মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, হকার্স নেতা মুহাম্মদ ইমাম হুসেন ভূইয়া প্রমুখ ।
অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন বলেন, শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের হাড়ভাঙ্গা শ্রমে শিল্প-কারখানা ও সুউচ্চ অট্টালিকা গড়ে উঠলেও শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি শোষণ-বঞ্চনা এবং নির্মম দুঃখ-দুর্দশার শিকার। তিনি বলেন, শ্রেণি বৈষম্য দূর না হলে মালিক-শ্রমিকের সুসম্পর্ক কখনো গড়ে উঠবে না।
আর মালিক-শ্রমিকের সুসম্পর্ক ছাড়া কাম্যমানের উৎপাদন সম্ভব নয়। মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, ১০জন শ্রমিক হত্যাকে কেন্দ্র করে মে দিবসের উৎপত্তি হলেও এখন প্রতিনিয়ত শত শত শ্রমিক মারা যাচ্ছে, কিন্তু এসব শ্রমিক হত্যার বিচার হচ্ছে না।
তিনি বলেন, কোন সরকারই শ্রমজীবী মানুষের প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ করে না। অথচ ক্ষমতার জন্য শ্রমিকদের ব্যবহার করে।
আলহাজ্ব মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের জন্য প্রদত্ত দেশ-বিদেশের শত শত কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। রানা প্লাজার হাজার হাজার শ্রমিক এখনও তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পায়নি। প্রতিনিয়ত শত শত শ্রমিক হত্যার কোন বিহিত হয় না। রানা প্লাজা ঘটনায় ১০৩৪জন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছে। শত শত শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে। এর কোন সুরাহা হয়নি।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ আশরাফ আলী আকন বলেন, ১৩২ বছর আগে মে দিবসের ঘটনা শুরু হলেও আজ পর্যন্ত শ্রমজীবী মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি। তিনি বলেন, শ্রমিক সমাজ বিত্তবানদের প্রয়োজনীয় সকল পণ্য উৎপাদন করলেও তাদের সন্তানেরা সে সব পণ্য সামগ্রী উপভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বহু শ্রমিক অনাহারে ও অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। সমাবেশে শ্রমিকগণকে সর্বোচ্চ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া এবং তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ ৮ দফা দাবি পেশ করা হয়।
তিনি বলেণ, ১৩২ বছর পূর্বে একটি দাবি শ্রমিকদের ৮ঘন্টা কাজের দাবিতে শ্রমিক দিবস পালন করা হলেও এরও ১৩০০ বছর আগে মহানবী সা. শ্রমিকদের ১৩টি অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। কাজেই শ্রমিকদের অধিকার একমাত্র ইসলামই নিশ্চিত করেছে।

আপনার মতামত দিন
391Shares

স্যোসাল মিডিয়াতে দেখুন আমাদের সংবাদ

Follow us on Facebook Follow us on Twitter Follow us on Pinterest 0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     একই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ